জালিমদের থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীতে চাকরি করা মৌলিকভাবে বৈধ। তবে নাজায়েয ও গলত(ভূল)কাজের জন্য চাকরি করা এবং এর পক্ষে লড়াই করা বৈধ নয়। এক্ষেত্রে শহীদ হওয়ার আশা করাও বোকামি। শাহাদাত তো দূরের বিষয়; কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের ঈমান নিরাপদ রাখাই কঠিন হয়ে দাড়ায়। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৩ খন্ড)
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর বাহিনী প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, তাই মৌলিকভাবে এসব বাহিনীতে চাকুরী করা বৈধ। তবে এসব বাহিনীতে যদি অমুসলিমদের আইন-কানুন
প্রচলিত থাকে, তাহলে সেসবের মধ্যে যেসব আইন-কানুন ইসলামী শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক—সেগুলোর অনুসরণ করা যাবে না। অনুসরণ করা বৈধ হবে না।
আর যেসব আইন-কানুন ইসলামী শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়—যদিও তা বিধর্মীদের বানানো আইন কানুন হয়—সেগুলো অনুসরণ করা যাবে। এ কারণে বাহিনীতে চাকরি করা নাজায়েয হয়ে যাবে না।
-বিন্নুরি ফাতাওয়া নম্বর 144309101201
ডিফেন্সে চাকরির জন্য মেডিকেল চেকআপের সময় সতর খোলা প্রসঙ্গ—
ইসলামী শরীয়াহ মতে, তীব্র শরঈ ওজর (যেমন অসুস্থতা, চিকিৎসা ইত্যাদি) ছাড়া কোনো ব্যক্তির জন্য স্ত্রী ব্যাতীত অন্য কারো সামনে সতর খোলা জায়েয নয়। একেবারে নিষিদ্ধ। তাই যেকোনো পদে চাকরি পাওয়ার জন্য মেডিকেল চেকআপের সময় অন্যদের সামনে নিজের সতর খোলা এবং তা দেখানো শরঈভাবে বৈধ নয়।
অতএব ডিফেন্সে চাকরি করা বা বা চাকরির জন্য আবেদন করা মৌলিকভাবে জায়েয, তবে এর জন্য প্রার্থীর পোশাক খুলে সতর (লজ্জাস্থান) দেখা এবং দেখানো উভয়টাই নাজায়েয এবং কবীরা গুনাহের কাজ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
হানাফি ফিকহের বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ ‘মাজমাউল আনহুরে’ অনুরূপ এসেছে—
“وينظر الرجل من الرجل إلى ما سوى العورة وقد بينت في الصلاة أن العورة ما بين السرة إلى الركبة والسرة ليست بعورة.” (4/200،دارالکتب العلمیۃ)
-বিন্নুরি ফাতাওয়া নম্বর 144205200329
চাকরির কারণে দাড়ি কাটা প্রসঙ্গ—
দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীর শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয। যেহেতু দাড়ি রাখা সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। তবে এটা ‘সুন্নতে ওয়াজিবা’। অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকেও এর গুরুত্ব বেশি এবং এটা পরিত্যাগ করলে গুনাহ হয়। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে—
عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصّ الشّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ…
দশটি বিষয় ‘ফিতরাতে’র অন্তর্ভুক্ত : মোচ কাটা, দাড়ি লম্বা রাখা,…। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬১
আরবীতে ‘ফিতরাত’ শব্দের অর্থ স্বভাব। আল্লাহ তাআলা যে উত্তম মানবীয় স্বভাব সৃষ্টি করেছেন তার সর্বোত্তম নিদর্শন নবী ও রাসূলগণ। এ কারণে ‘ফিতরাত’ শব্দটির অর্থ করা হয়, আদর্শ ও অনুকরণীয় স্বভাব, তথা নবী ও রাসূলগণের স্বভাব। (দ্রষ্টব্য : ফাতহুল বারী, হাদীস ৫৮৮৯-এর অধীনে)
কাজেই ‘চাকরি’ বা এ জাতীয় অন্য কোনো কারণে দাড়ি কামানোর বা এক এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দাড়ি কাটলে শরীয়তের পরিভাষায় সে ‘ফাসিক’ বলে গণ্য হবে।
এমন অনেক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি আছে যেখানে দাড়ি রেখে কাজ করা যায়। যেখানে দাড়ি কাটতে বাধ্য করা হয় না। ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করা হয়। সেসব বিকল্প জায়গায় চাকরির সন্ধান করা যেতে পারে। এমন কর্মক্ষেত্র না পাওয়া গেলেও হালাল আরো অনেক পেশা রয়েছে, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করে তাতে যুক্ত হওয়া যেতে পারে। হালাল উপার্জনের জন্য নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাযের পর ইস্তিগফার ও দরুদ শরীফের পাশাপাশি ’’یا وَدُوْدُ‘‘ (ইয়া ওয়াদুদু) বেশি বেশি পড়া উচিৎ।
আর কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে চাকরির জন্য যদি দাড়ি কাটার প্রয়োজন হয় এবং কোনো ব্যক্তি তা কাটে তাহলে এর কারণে তার বেতন হারাম হবে না। তবে দাড়ি কাটার স্বতন্ত্র কবীরা গুনাহ হবে।
-বিন্নুরি ফাতাওয়া নম্বর 144205200456
মূল: জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন করাচী।
